ওয়েব ডিজাইনে হাতে খড়ি

You are currently viewing ওয়েব ডিজাইনে হাতে খড়ি

একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ওয়েব ডিজাইনের প্রথম পাঠ।

উচ্চ মাধ্যমিকে সকল গ্রুপের জন্য  ‘তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি’ একটি বাধ্যতামূলক বিষয়। ওয়েব ডিজাইনে হাতে খড়ি লেখাটি তাদের জন্য। বিশ্বায়নের এই যুগে আমরা সবাই একই বিশ্বগ্রামের বাসিন্দা। পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সবাই সংযুক্ত।  তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির অবাধ প্রবাহের ফলে জীবন ও অর্থনীতি এখন অনেক বেশি গতিশীল। তথ্য ও প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করে  দক্ষ ও সৃজনশীল মানবসম্পদ গড়ে তুলে একটি জ্ঞান ভিত্তিক অর্থনীতি ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করাই একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ। বিভিন্ন ক্ষেত্রে ই-সার্ভিস চালু করে জনগণের দোরগোড়ায় সরকারি ও বেসরকারি সেবা পৌঁছে দিতে পারলে দুর্নীতি অনেকাংশেই কমে আসবে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও অ্যাপের মাধ্যমে নানান রকম সেবা পাওয়া যাচ্ছে।  কিন্তু এ সেক্টরে এখনও দক্ষতা ও সৃজনশীলতার অভাব দৃশ্যমান।  সেজন্য শিক্ষার বিভিন্ন স্তরে আইসিটি শিক্ষাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।

উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বইয়ে ওয়েব ডিজাইনের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একজন শিক্ষার্থী খুব সহজেই ওয়েব ডিজাইনের কিছু মূল বিষয়ের ধারণা নিয়ে কিভাবে একটি ওয়েবসাইট ডিজাইন করবে সে সম্পর্কে একটি চমৎকার গাইডলাইন একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির আইসিটি বইয়ে দেওয়া হয়েছে। ওয়েব ডিজাইন শেখার আগে এ সম্পর্কিত কিছু বিষয়  জেনে নেওয়া আবশ্যক। সংক্ষেপে ওয়েব ডিজাইন সম্পর্কিত শব্দগুলো এখানে আলোচনা করা হল। ওয়েব ডিজাইনে হাতে খড়ি দ্বিতীয় পর্বে ডোমেইন হোস্টিং নিয়ে আলোচনা করা হবে।

ওয়েব ডিজাইন(Web Design) কী?

খুব সহজ ভাষায় বলতে গেলে ‘কোন একটি ওয়েবসাইটের ডিজাইন করাইকেই ওয়েব ডিজাইন বলে।’ যিনি ওয়েবসাইটটি ডিজাইন করেন তাকে ওয়েব ডিজাইনার বলে। একজন ওয়েব ডিজাইনার HTML(Hyper Text Markup Language),  CSS(Cascading Style Sheets),  PHP(Hypertext Preprocessor),  Java Script, Python ইত্যাদি টুলস ব্যবহার করে দৃষ্টিনন্দন সব ওয়েবসাইট ডিজাইন করেন। এখানে তোমাদের শেখানো হবে HTML ব্যবহার করে কিভাবে তোমরা একটি ওয়েবসাইট ডিজাইন করবে। যেমন: www.educationboardresults.gov.bd

একটি ওয়েবসাইটের ঠিকানা যেখান থেকে তোমাদের বোর্ড পরীক্ষার ফলাফল সহজেই পেয়ে যাও। 

ওয়েবসাইট(Website): 

ওয়েবসাইট হচ্ছে কতগুলো ওয়েব পেজের সমষ্টি যা কিছু হাইপারলিংকের মাধ্যমে পরস্পরের সাথে সংযুক্ত। যার একটি নির্দিষ্ট ডোমেইন নাম থাকবে এবং ওয়েব সার্ভারে সংরক্ষিত থাকবে। 

ওয়েব পেজ(Web Page):

একটি ওয়েবসাইটের যে পেজগুলো থাকে এবং ইন্টারনেট কানেকশন ব্যবহার করে যেখানে  বিভিন্ন তথ্য প্রদর্শিন করা হয় তাকে ওয়েব পেজ বলে। ওয়েব পেজের মূল স্ট্রাকচার সাধারণত HTML ও CSS ব্যবহার করে তৈরি করা হয়। একটি ওয়েব পেজে তথ্য বিভিন্ন ফর্মে থাকতে পারে। যেমন- টেক্সট,  প্যারাগ্রাফ, লিস্ট, ইমেজ, অডিও, ভিডিও, সফটওয়্যার ইত্যাদি। 

www.konnect.edu.bd একটি ওয়েবসাইট যেটি কিশোর বাতায়ন নামে পরিচিত এবং এখানে  বিভিন্ন পেজে বিভিন্ন রকমের তথ্যের সন্নিবেশ করা হয়েছে। অনলাইন ক্লাসগুলো এখানে পাওয়া যাবে।  ওয়েবসাইটের প্রথম পেজকে হোম পেজ বলে। 

World Wide Web(WWW)

আমরা বর্তমানে ইন্টারনেটের যুগে বাস করছি। তথ্যই শক্তি এবং তা সবার জন্য উন্মুক্ত।  বৃটিশ পদার্থবিদ ও এমআইটির অধ্যাপক স্যার টিম বার্নার্স লি ১৯৮৯ সালে CERN(The European Organization for Nuclear Research) এ কর্মরত অবস্থায় ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব বা সংক্ষেপে ওয়েব আবিষ্কার করেন। সারা পৃথিবীর সব প্রান্তের মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করে খুব সহজেই যেন পরস্পরের মধ্যে তথ্যের বিনিময়ে ঘটাতে পারে সে লক্ষ্যে তিনি এই বৈপ্লবিক আবিষ্কার করেন।  টাইম ম্যাগাজিনের বিংশ শতাব্দীর সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ ১০০ ব্যক্তির তালিকার তিনি একজন নির্বাচিত হয়েছেন। গবেষণাগারে কাজ করতে গিয়ে গবেষণার ফলাফল ডাটাবেজে রাখতে হত। এক কম্পিউটার তথ্য রেখে আর এক কম্পিউটার হতে কিভাবে একসেস করা যায় সেটা দেখতে গিয়ে তিনি ওয়েব আবিষ্কার করেন। বিভিন্ন সার্ভারে থাকা তথ্যের মধ্যে ইন্টারনেট কানেকশন ব্যবহার করে একটি বিশাল ভার্চুয়াল তথ্য ভাণ্ডার হচ্ছে এই ওয়েব। টিম বার্নার্স লি

ক্লায়েন্ট(Client) এবং সার্ভার(Server): 

দুটি কম্পিউটার এর মধ্যে যোগাযোগের ক্ষেত্রে যে কম্পিউটারে তথ্য আসবে তাকে ক্লায়েন্ট বলে। 

যে কম্পিউটার থেকে তথ্য ক্লায়েন্টের কাছে পাঠানো হচ্ছে তাকে সার্ভার বলে। ক্লায়েন্টের চাহিদা অনুযায়ী ইন্টারনেট কানেকশনের মাধ্যমে সার্ভার নির্দিষ্ট ফরম্যাটে তথ্য সরবরাহ করে। সার্ভার

ব্রাউজার(Browser):

ব্রাউজার

ইন্টারনেটে বিভিন্ন ওয়েবসাইট বা ওয়েব পেজ ভিজিট করার জন্য যেসকল ব্রাউজার সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয় তাকে ব্রাউজার বলে। যেমন- গুগল ক্রোম, মজিলা ফায়ারফক্স, সাফারি, অপেরা মিনি ইত্যাদি।  ব্রাউজারের এড্রেস বারে নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটের ঠিকানা টাইপ করে ভিজিট করা যায়। 

ডোমেইন নেম(Domain Name): 

কোন ওয়েবসাইটের ঠিকানাকে বলা হয় ডোমেইন নেম। অর্থাৎ ব্রাউজারের এড্রেসবারে যে ঠিকানা টাইপ করা হয় তাকে ডোমেইন নেম বলা হয়। 

যেমন- www.facebook.com, www.utpaulkumar.com ইত্যাদি।  ডোমেইন

DNS(Domain Name System) দ্বারা ডোমেইন নেম নিয়ন্ত্রণ করা হয়। আইপি এড্রেস মনে রাখা কঠিন তাই এর বিপরীতে ডোমেইন নেম ব্যবহার করা হয়। বিভিন্ন ধরনের ডোমেইন নাম আছে। যেমন-. com,. net,. gov,. org,. edu,. mil,. int 

ডোমেইন নামের সাথে কান্ট্রি লেভেল যুক্ত করলে বুঝা যায় ডোমেইনটি কোন দেশের। যেমন- বাংলাদেশের ওয়েব পোর্টাল এর ঠিকানা- www.bangladesh.gov.bd

আইপি এড্রেস(IP Address):

ইন্টারনেটে সংযুক্ত প্রত্যেকটি ডিভাইস শনাক্তকরণের জন্য একটি ইউনিক আইডি ব্যবহার করা হয় একে আইপি এড্রেস বা Internet Protocol Address  বলা হয়। আন্তর্জাতিক সংস্থা IANA(Internet Assigned Numbers Authority) আইপি এড্রেস নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। আইপি এড্রেসের চারটি সেগমেন্ট থাকে।  প্রতিটি সেগমেন্ট ডট(.) চিহ্ন দ্বারা পৃথক থাকে। প্রতি সেগমেন্ট ৮ বিটের করে মোট ৩২ বিটের হয়। এ ধরনের আইপি এড্রেস IPv4(Internet Protocol Version) নামে পরিচিত। 

হোস্টিং(Hosting):

একটি ওয়েবসাইটের সমস্ত ফাইল  যে ওয়েব সার্ভারে হোস্ট বা স্টোর করা হয় তাকে হোস্টিং বলে। 

ইন্টারনেট প্রটোকল(Internet Protocol): 

ইন্টারনেটে তথ্য আদান-প্রদান করার জন্য যে প্রটোকল ব্যবহার করা হয় তাকে ইন্টারনেট প্রটোকল বলে। ইন্টারনেটে সাধারণত TCP(Transmission Control Protocol)/IP(Internet Protocol) ব্যবহার করা হয় যার ফলে ক্লায়েন্ট কম্পিউটার থেকে  সার্ভারে ফাইল  ট্রান্সফার করার সময় কিছু নিয়ম মেনে চলতে হয়।

ওয়েব সার্ভার এবং ক্লায়েন্টের মধ্যে তথ্য বিনিময়ের জন্য যে প্রটোকল ব্যবহার করা হয় তাকে বলে HTTP(Hyper Text Transfer Protocol) 

একটি ওয়েবসাইট তৈরি  করতে যে বিষয়গুলো প্রয়োজন।

📌ইন্টারনেট সংযোগসহ ডিভাইস (মোবাইল/ল্যাপটপ/ডেস্কটপ)।

📌ডোমেইন এবং হোস্টিং রেজিষ্ট্রেশন। 

📌বিভিন্ন টুলস ব্যবহার করে ওয়েবসাইট ডিজাইন করা। 

📌ওয়েব সার্ভারে ওয়েবসাইট আপলোড করা। 

📌ওয়েবসাইট পাবলিশ করা। 

ওয়েবসাইটের সুবিধা:

  • বিভিন্ন পরীক্ষার ফলাফল ঘরে বসে  সহজেই পাওয়া যায়। 
  • অনলাইন ব্যাংকি সুবিধা পাওয়া যায়। 
  • রেল, বিমান বা বাসের টিকেট কাটা যায়। 
  • বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষাসহ সকল অনলাইন রেজিষ্ট্রেশন করা যায়। 
  • সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে ইনস্ট্যান্ট যোগাযোগ রক্ষা করা যায়। 
  • ই-কমার্স ওয়েবসাইট ব্যবহার নিজস্ব ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার ঘটানো যায়। 
  • ব্লগ ওয়েবসাইট খুলে নিজের চিন্তা-ভাবনা এবং কাজকে সবার কাছে পৌঁছানো যায়।  
  • বিশ্বের যে কোন প্রান্তের নিউজ পেপার অনলাইনে পড়া যায়। 
  • বিভিন্ন  সরকারি-বেসরকারি সেবা পাওয়া যায়। 

 

ওয়েব ডিজাইনে হাতে খড়ি দ্বিতীয় পর্ব চলবে—–

 

Leave a Reply